১. হালাল উপার্জন ও দায়িত্বশীলতা : নবী ইয়াকুব (আ.) ছিলেন পরিশ্রমী ও দায়িত্ববান একজন পিতা। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী তিনি মেষপালন করতেন এবং নিজের পরিবারের জীবিকা হালাল উপার্জনের মাধ্যমে নির্বাহ করতেন।
তাই একজন আদর্শ পিতার উচিত, সন্তানকে শুধু অর্থ নয়, হালাল রিজিকের ব্যবস্থাও করে দেওয়া।
২. সন্তানের কল্যাণে অবিরাম দোয়া ও উপদেশ : নবী ইয়াকুব (আ.)-এর সন্তানরা তাঁর সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছিল। তারা প্রিয় পুত্র ইউসুফ (আ.)-কে তাঁর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল। কিন্তু এত বড় কষ্ট পাওয়ার পরও তিনি কখনো তাদের জন্য দোয়া করা, উপদেশ দেওয়া কিংবা কল্যাণ কামনা করা বন্ধ করেননি। ইরশাদ হয়েছে, “তারা বলল, ‘হে আমাদের পিতা! আমাদের পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয়ই আমরা অপরাধী ছিলাম।’ তিনি বললেন, ‘আমি শিগগিরই আমার প্রতিপালকের কাছে তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিশ্চয়ই তিনিই পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৯৭-৯৮)
৩. প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও ধৈর্য ধারণ : যখন ছেলেরা ইউসুফ (আ.)-এর জামায় মিথ্যা রক্ত লাগিয়ে এনে বলল যে নেকড়ে তাকে খেয়ে ফেলেছে, তখন ইয়াকুব (আ.) তাদের কথাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করেননি। তিনি ঘটনাটির অসংগতি বুঝতে পেরেছিলেন এবং অসাধারণ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘বরং তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটি বিষয়কে সহজ করে দিয়েছে। অতএব, আমার করণীয় হলো উত্তম ধৈর্য (সবরুন জামিল)।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১৮)
এই ঘটনাগুলো আমাদের শেখায়, একজন আদর্শ পিতা আবেগের বশবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত নেন না; বরং ধৈর্য, বিচক্ষণতা ও আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন।
৪. সহমর্মিতা প্রদর্শন করা : নবী ইয়াকুব (আ.) সন্তানদের সঙ্গে কঠোর শাসকের মতো নয়, বরং স্নেহময় অভিভাবকের মতো কথা বলতেন। তিনি তাদের কথা শুনতেন, মতামতের মূল্য দিতেন এবং ভালোবাসার ভাষায় সংবোধন করতেন। তাঁর পরিবারে সংলাপ ছিল, দূরত্ব নয়। কোরআনে বিভিন্ন স্থানে আমরা দেখি, তিনি সন্তানদের পরামর্শ দিচ্ছেন, সতর্ক করছেন এবং আন্তরিকভাবে তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। (দেখুন : সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৫ ও ৬৭)।
কেননা সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তাদের আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৫. ক্ষমাশীল হওয়া : একজন পিতার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো ক্ষমা করার ক্ষমতা। নবী ইয়াকুব (আ.)-এর ছেলেরা বছরের পর বছর তাঁকে শোক ও কষ্টের মধ্যে রেখেছিল। কিন্তু যখন তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইল, তখন তিনি তাদের অপমান করেননি, প্রতিশোধ নেননি কিংবা প্রত্যাখ্যানও করেননি। বরং মমতাভরা হৃদয়ে বললেন, ‘আমি শিগগিরই আমার প্রতিপালকের কাছে তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৯৮)
এটাই একজন আদর্শ পিতার হৃদয়—যেখানে শাস্তির চেয়ে সংশোধনের আকাঙ্ক্ষা বড়, প্রতিশোধের চেয়ে ভালোবাসা গভীর।









