বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অবিশ্বাস্য নাটকীয়তার জন্ম দিল আর্জেন্টিনা। একসময় ম্যাচ থেকে বিদায় নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শেষ পাঁচ মিনিটে দুই গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
আটলান্টার গর্জনমুখর স্টেডিয়ামে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ মুহূর্তে লিওনেল মেসির দুটি দুর্দান্ত অ্যাসিস্টে প্রথমে এনজো ফার্নান্দেজ এবং পরে বদলি লাউতারো মার্তিনেজ গোল করে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে দেন। রোববার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠেয় ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ম্যাচে গতি আসে দ্বিতীয়ার্ধে। ৫৫ মিনিটে হ্যারি কেইনের আক্রমণ প্রতিহত করলেও বল যায় ডেকলান রাইসের কাছে। রাইস দ্রুত বল তুলে দেন মরগান রজার্সের পায়ে। অ্যাস্টন ভিলার মিডফিল্ডারের নিখুঁত ক্রসে ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনাকে ফাঁকি দিয়ে গোল করেন অ্যান্থনি গর্ডন।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল একাদশে সুযোগ পেয়ে অ্যাসিস্ট করেন রজার্স। অন্যদিকে চলতি বিশ্বকাপে গর্ডনের এটি দ্বিতীয় গোল। চাপ বাড়ায় আর্জেন্টিনা গোল হজমের পর বদলি খেলোয়াড় নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ান কোচ লিওনেল স্কালোনি। নিকো গঞ্জালেস, রদ্রিগো ডি পল, নিকোলাস ওতামেন্দি, গঞ্জালো মন্টিয়েল এবং পরে লাউতারো মার্তিনেজকে মাঠে নামান তিনি।
৬৯ মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে নিকো গঞ্জালেসের হেড অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন জর্ডান পিকফোর্ড। ৭৬ মিনিটে ডি পলের ক্রসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটেই গঞ্জালেসের আরেকটি হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ইংল্যান্ড তখন পুরোপুরি রক্ষণে ব্যস্ত।
৭২ মিনিটে গোলদাতা গর্ডনকে তুলে এজরি কনসাকে নামিয়ে পাঁচ ডিফেন্ডারের কৌশল নেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। পরে ড্যান বার্ন ও নিকো ও’রাইলিকেও মাঠে নামিয়ে রক্ষণ আরও ভারী করেন তিনি।
এই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। রক্ষণে গুটিয়ে যাওয়ায় পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আর্জেন্টিনার হাতে।










