ঈদ উৎসবের অনুষঙ্গ হলেও খাদ্যের কোনো সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রদান করেনি ইসলাম, বরং উত্তম খাবার গ্রহণে উৎসাহিত করেছে, যেন প্রত্যেক মুসলমান স্থানীয় রীতি-সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের আলোকে তা গ্রহণ করতে পারে। তবে শর্ত হলো, এসব খাবার হালাল ও স্বাস্থ্যকর হতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আরাফার দিন, কোরবানির দিন ও আইয়ামে তাশরিক মুসলমানের ঈদের দিন। এগুলো খাওয়া ও পান করার দিন।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৩০০৪)
কোরবানির ঈদের একটি বড় ইবাদত কোরবানি করা। আর্থিক সামর্থ্য আছে এমন প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় ১০ বছর অবস্থান করেন। তিনি প্রতিবছর কোরবানি করেন।’(সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৫০৭)
নবীজি (সা.) তাঁর নিজের, পরিবার ও উম্মতের পক্ষ থেকে পশু কোরবানি করতেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরবানির ইচ্ছা করলে দুটি মোটাতাজা, মাংসল, শিংযুক্ত, ধূসর বর্ণের ও খাসি করা মেষ ক্রয় করতেন। অতঃপর এর একটি নিজ উম্মতের যারা আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দেয় এবং তাঁর নবুয়তের সাক্ষ্য দেয় তাদের পক্ষ থেকে এবং অন্যটি মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে কোরবানি করতেন।’(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১২২)
মহানবী (সা.) তাঁর করা কোরবানির পশুর গোশত নিজেও খেতেন, পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষদের খাওয়াতেন। আর তিনি উম্মতকেও তার নির্দেশ দিয়েছেন।’(আউনুল মাবুদ : ৭/৩৪৫)
গোশত বণ্টনের ক্ষেত্রে নবীজি (সা.)-এর কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর পরিবারকে কোরবানির এক-তৃতীয়াংশ আহার করাতেন, প্রতিবেশীদের এক-তৃতীয়াংশ আহার করাতেন আর ভিক্ষুকদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ সদকা করতেন।’ (আল-মুগনি : ৯/৪৪৯)
মূলত কোরবানির পশুর গোশত বিতরণের মাধ্যমে মুসলিমরা অন্যের সঙ্গে নিজেদের আনন্দ ভাগ করে নেয়, যেভাবে তারা ঈদুল ফিতরে সদকাতুল ফিতর বিতরণ করে অসহায় মানুষকে ঈদ আনন্দে শরিক করে নেয়। এ জন্য এক বছর মদিনায় অভাব বৃদ্ধি পেলে তিনি নির্দেশ দেন, কোরবানির পশুর গোশত যেন তিন দিনের বেশি সংরক্ষণ করা না হয়।(জাদুল মাআদ, পৃষ্ঠা-৪২৬)
রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরবানির ঈদের দিন কিছু না খেয়ে ঈদের নামাজ পড়তেন এবং কোরবানির গোশত রান্না হলে তা থেকে সর্বপ্রথম খাবার গ্রহণ করতেন। (সুনানে দারেমি, হাদিস : ১৫৬৭)
অতএব, একজন মুমিন তখনই সফল হয়, যখন সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রবৃত্তি, অহংকার, লোভ ও দুনিয়ার মোহকে কোরবানি করতে পারে। কেননা আল্লাহর জন্য ত্যাগের বিনিময়েই লাভ হয় আল্লাহর নৈকট্য, রহমত ও চিরস্থায়ী সফলতা। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত ইসলামের ইতিহাস থেকে আত্মত্যাগের শিক্ষা গ্রহণ করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুক। আমিন।










