সেখানে ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-র নেতা সরদার আমান খান পাকিস্তানের রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষিত সন্ত্রাসী পরিকাঠামো নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। সরদার আমান খান সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, ‘পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিজেই একসময় কাশ্মীরিদের হাতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ তুলে দিয়েছিল। আর আজ তারাই আমাদের সন্ত্রাসী বলার ধৃষ্টতা দেখায়।’সমাবেশে দেওয়া ভাষণে খান গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘জইশ-ই-মোহাম্মদ’-এর একটি কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সেই কর্মসূচিতে সশস্ত্র জঙ্গিরা একে-৪৭ ও তলোয়ারের মতো মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে শহরজুড়ে মিছিল করেছিল। রাওয়ালকোটের ডেপুটি কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি এখানে বন্দুক আর তলোয়ার নিয়ে সমাবেশ করার অনুমতি ও নিরাপত্তা দিয়েছিলেন, আপনার মনে আছে? অথচ আজ আমাদের সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে। এই বিক্ষোভকারীরা এই মাটিরই আসল উত্তরাধিকারী।’ তার এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতা তুমুল করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানায়।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে পাকিস্তান সরকারকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সরদার আমান খান বলেন, যদি তাদের উত্থাপিত ৩৮টি দাবি অবিলম্বে মেনে নিয়ে বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে এই আন্দোলন আর সাধারণ দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি তখন পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানকে ‘সম্পূর্ণ খালি করার’ আন্দোলনে রূপ নেবে।
দুই দিন আগেই রাওয়ালকোটের বিক্ষোভকারীরা অঞ্চলটিতে ইসলামাবাদের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। বক্তারা দাবি করেন, এই অঞ্চলকে আর পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। দাবি আদায় না হলে ভারতের সঙ্গে আরো জোরালো সম্পৃক্ততা ও যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও তারা হুঁশিয়ারি দেন। খান স্পষ্ট করে বলেন, এই অঞ্চলটি পাকিস্তানের অংশ নয়, বরং পাকিস্তানেরই এই অঞ্চলের অভাব বেশি।










