ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরে প্রেমের টানাপোড়েন ও সম্পর্কের বিরোধের জেরে ঘটে গেছে এক নৃশংস ও রোমহর্ষক ঘটনা। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস) হাসপাতালের সামনে চলন্ত গাড়ির ছাদে চেপে প্রেমিকাকে থামানোর আকুল চেষ্টা করেও জীবন বাঁচাতে পারলেন না ৩৪ বছর বয়সী এক যুবক। গাড়িটি না থামিয়ে উল্টো প্রচণ্ড গতিতে চালিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয় তাকে এবং চাকার নিচে পিষে মেরে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত বুধবার রায়পুরের আমানাকা থানা এলাকায় মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত যুবকের নাম পরমপ্রীত সিং। তিনি তাতিবন্ধ এলাকার উদয় সোসাইটির ৪ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনার সময় এক তরুণী গাড়িতে করে এআইআইএমএস হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে পরমপ্রীতের সঙ্গে তার ও তার পুরুষ সঙ্গীর তীব্র তর্কাতর্কি ও বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তরুণীটি তড়িঘড়ি করে গাড়িতে উঠে পড়ে এবং গাড়ি নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করার চেষ্টা করেন। তখন পরমপ্রীত গাড়িটিকে থামানোর জন্য কোনো উপায় না পেয়ে ব্যাকুল হয়ে গাড়ির ছাদে উঠে পড়েন এবং ছাদ আঁকড়ে ধরেন। কিন্তু চালক গাড়ি না থামিয়ে চরম বেপরোয়া গতিতে চালাতে শুরু করে।
কিছুদূর যাওয়ার পর চলন্ত গাড়ির ছাদ থেকে নিচে ছিটকে পড়েন পরমপ্রীত। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের তথ্যমতে, ছাদ থেকে পড়ার পর চালক গাড়িটি থামানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা না করে পরমপ্রীতের শরীরের ওপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে স্থান ত্যাগ করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পরমপ্রীত সিংয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ছত্তিশগড়ের দুর্গ এলাকার বাসিন্দা ভারত মাঙ্গনানি নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরমপ্রীতের আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। প্রাথমিক তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আমানাকা থানা পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ১০৩ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।










