কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলের বারে কথা কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষে নাজিবুল হক রাশেদ (২৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মারধরের শিকার হয়ে পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত মোহাম্মদ সালমানও (২৮) মারা গেছেন।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, রাশেদসহ কয়েকজন যুবক হোটেলের দোতলার বারে বসেছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া শুরু হয়। পরে সালমানের পক্ষ বাইরে থেকে আরও কয়েকজন যুবককে ডেকে আনে। তারা বারে ঢুকে রাশেদকে ছুরিকাঘাত করে। এতে তার পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর মধ্যম নুনিয়ারছড়া এলাকায় রাশেদের পক্ষের কয়েকজন তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সালমানকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ সূত্র ও স্থানীয়দের দাবি, সালমানের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাইসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার বিস্তারিত তথ্য ও মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত তাজওয়ার হক রাদি, যার বাবা তাহের মিয়া, তার নেতৃত্বে রাশেদকে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, চলতি মাসেই রাদির নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপের বিরুদ্ধে অন্তত সাতজনকে ছুরিকাঘাত এবং কয়েকজনকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তবে ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে মামলা করতে সাহস করেননি বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাতের বেলায় তাজওয়ার হক রাদির নেতৃত্বাধীন একটি চক্রের তৎপরতা শহরে বেড়েছে। তাদের দাবি, ওই চক্রের বিরুদ্ধে ছিনতাই, অপহরণ, ইয়াবা পাচার, বিশেষ করে বড় চালানের লেনদেনের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, রাতের বেলায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলেও ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে চান না।
নিহত রাশেদ ফিশারিঘাট এলাকায় ব্যবসা করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে ফিশারিঘাট এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, হোটেলের বারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।










