মিরপুরের শাহ আলী মাজারের মানতের টাকা লুটপাটের জন্যই সেখানে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রচিন্তক ও কবি ফরহাদ মজহার। হামলাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। শেখ এই দেশে টিকে থাকতে পারেননি। মাজারের টাকা লুটের চেষ্টা ও হামলা চালিয়ে আপনারও টিকে থাকতে পারবেন না।’
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর শাহ আলী মাজার প্রাঙ্গণে গণঅবস্থান ও ভাবগানের আসরে ফরহাদ মজহার এসব কথা বলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে এই মাজারে হামলার প্রতিবাদে ‘সাধু-গুরু-ভক্ত ও ওলি-আওলিয়া আশেকান পরিষদ’ ও ‘ভাববৈঠকী’ যৌথভাবে এই গণঅবস্থানের আয়োজন করে।
তিনি বলেন, মাজারে যে মানতের টাকা ওঠে, সেটা পাগলদের হক। এই টাকা লুটের জন্য গাঁজা খাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলে হামলা করা হয়েছে। আমরা এই মাজারে ভাবগান করি। আমাদের আঘাত করা হলে আমরা চুপচাপ থাকবো না। চুপে চুপে আঘাত করা হলে রুখে দাঁড়াবো।
এর আগে মাজারে হামলার ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। তবে এই হামলার জন্য কাউকে দায়ী না করে এ নিয়ে স্থানীয় জামায়াতের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেমের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে বলে জানান ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, এখানে ইজারাব্যবস্থার নামে মাজারের টাকা লুটপাট হচ্ছে। ১০ হাজার টাকায় একেকটি দোকান ইজারা নিয়ে ১ লাখ টাকায় বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে। এই মাজার আমাদের, এই মাজারকে আমরাই পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবো। কিন্তু ইজারাদারদের নাম দিয়ে পাগলে ও ভক্তদের টাকা লুটে নিতে দেবো না।
মাজারের পাগলদের উদ্দেশে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘পাগলদের বলবো- এই মাজারের আদব রক্ষা করে চলতে হবে। গাঁজাখোর বলে অভিযোগ তুলে কেউ যেন এখানে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ না করতে পারে। আমাদের নিজেদেরও উচ্ছৃঙ্খলতা করা যাবে না। ছেলে মেয়ে বউ পরিবার সকলে মিলে আমরা এই মাজারের পরিবেশ রক্ষা করে চলবো।’










