স্ত্রী আবার বিদেশে ফিরে যাওয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে নিজের তিন সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবা সরাফত আলীর বিরুদ্ধে। পরে নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী রজনী লাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তিন শিশু হলো, সরাফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০), ছেলে শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সরাফত আলীকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সরাফত আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। সরাফত তাকে আর বিদেশে না যেতে চাপ দেন। তবে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে স্বামীর আপত্তি উপেক্ষা করে তিন দিন আগে আবার সৌদি আরবে ফিরে যান ফাতেমা। এরপর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে তার বিরোধ চরমে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সরাফত মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। শুক্রবার রাতে তিন সন্তানকে নিয়ে ঘুমাতে যান সরাফত। রাত আনুমানিক ১টার দিকে তিনি সন্তানদের কীটনাশক খাওয়ান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে নিজেও একই বিষ পান করেন।
বিষপানের পর ময়মনসিংহে থাকা নিজের ফুফুকে ফোন করে বিষয়টি জানান সরাফত। এ সময় পরিবারের কাছে ক্ষমাও চান তিনি। খবর পেয়ে সরাফতের ছোট ভাই রহমত আলী স্থানীয়দের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। ঘরের দরজা ভেঙে চারজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করে প্রথমে তাদের বাদাঘাট বাজারের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহায়তায় চারজনকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাসাদ আহমেদ বলেন, সকাল ৮টার দিকে তিন শিশুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের বিষ খাওয়ানো হয়েছিল।
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে নিহত শিশুদের পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে তিন সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর বাবা নিজেও বিষপান করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। চিকিৎসাধীন সরাফত আলীর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
তিনি আরও জানান, নিহত শিশুদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।










